Causes of Acne and How to Prevent Acne: Ensure smoothness in your skin
ব্রণ বা Acne সম্পর্কে সবাই কমবেশি শুনে থাকি। যদি আমি বলি সবাই এর সাথে খুব কাছ থেকে পরিচিত তাহলে খুব একটা যে ভুল বলা হবে না তা আমি নিশ্চিত । ব্রণ ত্বকের এমন এক সমস্যা যা প্রায় সবার জীবনে কোনো না কোনো সময় এসেছে এবং আমরা সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত ছিলাম তা বলার অবকাশ রাখে না ।
ত্বকে ব্রণ (Acne) হলে ত্বকে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি বা দানাদানা হয় । এই সমস্যা একসময় বিরক্তির সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় । ব্রণের কারণ ও প্রতিকার যদি জানা থাকে, তবে সহজে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব । আজ ব্রণের কারণ ও প্রতিকার (Causes of Acne and How to prevent Acne) নিয়ে আলোচনা করব ।
ব্রণের কারণ (Causes of Acne)
প্রথমেই আসা যাক ব্রণ তৈরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে । কারণ জানা থাকলে সেই সমস্যা সমাধান করা অনেকাংশেই সহজ হয়ে যায় । প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ
১. অতিরিক্ত তেল উৎপাদন (Excess oil production): ত্বকের নিচে থাকা তেল গ্রন্থি অনেক সময় বেশি তেল তৈরি করে । ফলে স্কিনের পোরস (Pores) কিংবা লোমছিন্দ্র বন্ধ হয়ে যায় । তখন ময়লা ও মৃত ত্বকের কোষ সেই পোরসের উপর জমে, যা ব্রণের কারণ হয়।
২. ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি (Bacterial growth): আমাদের ত্বকের উপর কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না । ইউটিউবে স্কিনের ব্যাকটেরিয়া লিখে সার্চ দিলে আপনি সহজেই সেসব ব্যাকটেরিয়ার ভিডিও দেখতে পাবেন । এসব ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রধান হলো Propionibacterium acnes । যখন পোরস বন্ধ হয়, তখন এই ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকে এবং স্কিনে সংক্রমণ সৃষ্টি হয় । ফলে ফুসকুড়ি ওঠে এবং ব্রণ হয় ।
৩. হরমোনের পরিবর্তন (Hormonal changes): কিশোরোত্তর বা কৈশোরে হরমোনের পরিবর্তন সবচেয়ে বড় কারণ। অ্যান্ড্রোজেন নামে হরমোন বেশি থাকলে তেলের গ্রন্থি সক্রিয় হয়। মহিলাদের পিরিয়ডের সময়ও ব্রণ হতে পারে । এগুলোকে হরমোনাল ব্রণ বা Hormonal Acne বলা হয় । আমাদের পরের আলোচনায় এটি নিয়ে বিস্তারিত বলব ।

৪. অপরিষ্কার ত্বক (Poor hygiene): ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ময়লা, তেল এবং মৃত কোষ জমে যায়। এতে পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ হয় । এটি অনেকটা স্কিনে তেল তৈরি হওয়ার কারণে যেমন লোমছিদ্র বন্ধ হওয়ার সাথে মিলে যায় ।
৫. অপ্রয়োজনীয় ফেসিয়াল পণ্য ব্যবহার (Wrong skincare products): কিছু পণ্য যেমন তৈলাক্ত লোশন, মেকআপ বা হেভি ক্রিম ব্রণ বাড়ায় । বিশেষ করে অয়েল-ভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক বেশি তেলাক্ত হয় ।
মূলত অনেকে সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন সম্পর্কে অবগত না থাকায় লোশন, ক্রিম কিংবা মেকআপ পরিষ্কার করার পদ্ধতি জানেন না । ফলে তাদের পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ তৈরি হয় ।
৬. মানসিক চাপ (Stress): অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরের হরমোনে পরিবর্তন আসে, ফলে তেলের গ্রন্থির কার্যক্রম নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হয় এবং ব্রণ বাড়াতে সহায়ক হয় ।
৭. খাদ্যাভ্যাস (Diet): যেসব খাবারে চিনি বেশি, ফাস্টফুড বা অতিরিক্ত ডেইরি প্রোডাক্ট ( যেমন দুধ, দই) খাওয়া হয়, সেগুলো ব্রণ বাড়াতে পারে । যদিও বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রমাণ করেননি, তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাদ্যের প্রভাব দেখা গেছে।
ব্রণ প্রতিরোধের উপায় (How to prevent Acne)
ব্রণ হওয়ার কারণ জানার পর আশা করি আপনার একটা ধারণা অবশ্যই হয়েছে । এবার আসা যায় প্রতিরোধ করার উপায়ের উপর ।
১. ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা: প্রতিদিন সকালে এবং রাতে মুখ ধুতে হবে মৃদু ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার দিয়ে । খুব অতিরিক্ত স্ক্রাব (Scrub) ব্যবহার করবেন না । কারণ ত্বকে প্রয়োজনের বেশি ভুল স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে ব্রণ বাড়তে পারে।
২. অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখ না ছোঁয়ানো: হাত থেকে ব্যাকটেরিয়া মুখে চলে আসে ফলে ব্রণ বাড়ে । তাই হাত ভালো করে ধুয়ে তারপর মুখ স্পর্শ করতে হবে । যতটুকু সম্ভব নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হবে ।

৩. সহজ এবং হালকা স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার: অয়েল-ফ্রি বা নন-কমেডোজেনিক (Non-Comedogenic) পণ্য ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, যা ত্বকের ছিদ্র বা পোরস বন্ধ করে না ।
৪. সঠিক খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত মিষ্টি বা ডেইরি কম খেলে ব্রণ কম হয় । বেশি ফল, সবজি ও পানীয় জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার । খাবারে সময় পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে ।
৫. মানসিক চাপ কমানো: ব্যায়াম, ধ্যান বা ভালো ঘুম মানসিক চাপ কমায় এবং ত্বক ভালো রাখে।
৬. ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া: যদি ব্রণ বেশি হয় বা গাঢ় হয়, তবে নিজে থেকে ওষুধ না নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতামত নিন।
৭. রান্নার তেল ও চুলের যত্ন: যদি রান্নার ধোঁয়া ত্বকে লাগে বা চুলে তেল বেশি ব্যবহার করেন, তা ত্বক জমে ব্রণ বাড়াতে পারে। তাই রোজ রান্নার পরে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন এবং চুল পরিষ্কার রাখতে হবে ।
৮. সানস্ক্রিন ব্যবহার: বাইরে গেলে অবশ্যই অয়েল-ফ্রি এবং স্কিন টাইপ অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে । ফলে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে এবং ব্রণ কম হবে।
শেষ কথা
সঠিক পদ্ধতি জানলে সহজেই ব্রণ দূর করা যায় । নিয়মিত যত্ন ও সতর্কতা দরকার । ত্বক পরিষ্কার রাখা, ভালো খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ কমানো এবং প্রয়োজনমতো ডাক্তারের সাহায্য নেওয়া হলে ব্রণের সমস্যায় অনেক কমতি আনা সম্ভব । সঠিক স্কিন কেয়ার পণ্যটি বাছাই করে ব্যবহার করলেই সহজেই সমাধান সম্ভব । সঠিক যত্ন আর সেরা পণ্য ব্যবহারে ত্বক থাকবে সুস্থ, সুন্দর ও ঝলমলে থাকবে।
আপনি কি ব্রণের জন্য কোন বিশেষ পদ্ধতি বা প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন? জানালে ভালো লাগবে!