Acne Cosmetica কি আর কেনই মেকআপে সতর্ক হওয়া আবশ্যক
মেকআপের কারণে ব্রণ হওয়া অনেকের জন্য সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। মেকআপ ব্রণকে ঢাকতে ব্যবহার করা হলেও সঠিক পণ্য ও পরিচর্যার অভাবে ব্রণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ধরনের ব্রণকে বিশেষভাবে ‘Acne Cosmetica’ বলা হয়, যেখানে মেকআপের বিভিন্ন উপাদান ত্বকের পোর বা ছিদ্র বন্ধ করে ফেলে এবং ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে। উইকিপিডিয়া এই সমস্যার লক্ষণ হিসেবে ছোট ছোট বাম্পস উঠার বিষয়টি বলেছে। আগের আলোচনায় আমরা ব্রণের কারণ, ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
আজকের আলোচনা সহজেই কিভাবে মেকআপ ব্রণ তৈরির একটি বড় কারণ হতে পারে তাই নিয়ে হবে। ব্রণের আরো ৪/৫ সিরিজ আলোচনা আসবে।
Acne Cosmetica বা মেকআপের জন্য ব্রণ হওয়ার কারণগুলো
⦁ কোমেডোজেনিক উপাদান (Comedogenic ingredients): অনেক মেকআপ পণ্যে এমন উপাদান থাকে যা পোর বন্ধ করে দেয়। যখন পোর বন্ধ হয়, তখন তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া জমে ইনফেকশন বা ফুসকুড়ি হয়ে ব্রণ হয়।
⦁ ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি: পুরানো বা খারাপভাবে সংরক্ষিত মেকআপে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ত্বকে ছড়িয়ে ব্রণ বাড়ায়। এতে খুব সহজে সংক্রমণ স্কিনে ছড়িয়ে পড়ে।

Beauty Of Joseon Glow Serum Propolis + Niacinamide – 30ml
⦁ অপরিষ্কার ব্রাশ ও স্পঞ্জ: মেকআপের ব্রাশ, স্পঞ্জ নিয়মমত না পরিষ্কার করলে তাতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া মুখে ছড়িয়ে পড়ে। কিংবা হাতে করেও এগুলো মুখে ছড়ায়। বিশেষ করে আমরা যখন বারবার স্কিনে হাত দিই তখন।
⦁ অতিরিক্ত মেকআপ: অনেক বেশি ভারি ও পুরু মেকআপ ত্বক শ্বসন(breathing) বাধাগ্রস্ত করে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে
⦁ মেকআপ না সরানো: রাতের বেলায় মেকআপ ধুয়ে না ফেলার কারণে ময়লা ও তৈল ত্বকে জমে, যা ব্রণের আশ্রয় হয়। এসময় পোরস বন্ধ হয়ে থাকে। তখন ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।
মেকআপের কারণে ব্রণের লক্ষণ
⦁ ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি, বিশেষ করে গাল, চিবুক এবং মুখের মাঝারি অংশে
⦁ রোধকৃত পোর থেকে সাদা দানা (Whiteheads) বা কালো দানা (Blackheads)
⦁ মুখে স্তর স্তর ফুসকুড়ির দেখা পাওয়া যা কিছুদিনে বাড়তে থাকে
⦁ চুলের সংস্পর্শে আসা অঞ্চলেও ব্রণ হতে পারে
মেকআপের কারণে ব্রণ প্রতিরোধের সহজ টিপস
১. নন-কোমেডোজেনিক (Non-Comedogenic) পণ্য ব্যবহার করুন:
কোনো মেকআপ পণ্য কেনার সময় প্যাকেটে ‘Non-comedogenic’, ‘Oil-free’ লেবেলটি দেখে নিন। এর মানে পণ্যটি ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করার সম্ভাবনা কম। তখন ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকবে।
২. ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার রাখা:
মেকআপ করার আগে ও পরে ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে কোনোভাবেই মেকআপ ধুয়ে ফেলে দিবেন।
৩. ব্রাশ ও স্পঞ্জ নিয়মিত পরিষ্কার করা:
মেকআপ করার সময় যেমন পরিষ্কার দিকটা গুরুত্ব দিতে হয় তেমনি এরপর দ্বিতীয়বার মেকআপ করার জন্য সেগুলো দিয়ে পরিস্কার করে রাখতে হয়। নয়তো স্কিনের জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে।
৪. মেকআপ পণ্যের মেয়াদ দেখে ব্যবহার করুন:
পুরানো বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার করবেন না। কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া হতে পারে। তাছাড়া কোনো পণ্যই মেয়াদ চলে গেলে ভালো থাকে না। তাই মেকআপের ক্ষেত্রেও একই।
৫. ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলুন:
দ্রুত ত্বক শ্বাস নিতে না পারায় ভারি ফাউন্ডেশন, কনসিলার বা পাউডার ব্রণ বাড়ায়। হালকা, মৃদু ফর্মুলার মেকআপ ব্যবহার করুন। এতে যেমন আপনি শান্তি পাবেন তেমনি আপনার স্কিনও স্বস্তি পাবে।
৬. আর্দ্রতা বজায় রাখুন:
মেকআপের সঙ্গে অবশ্যই উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যাতে ত্বক শুষ্ক বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত না হয়। ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার একটি আবশ্যক উপাদান।
৭. যত্ন নিন, নিয়মিত বাড়ির স্কিনকেয়ার করুন:
দিনে দুইবার ত্বক ক্লিনজার (cleanser), টোনার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এতে স্কিন থাকবে গ্লোয়িং, পাশাপাশি স্কিনের মধ্যে সহজে কোনো নতুন ব্রণ, পিগমেন্ট কিংবা অসময়ে ডালনেস দেখা দেবে না।
Acne Cosmetica এর কারণে ব্রণ হলে করণীয়
⦁ মেকআপ বন্ধ রেখে ত্বককে সময় দিন সুস্থ হওয়ার।
⦁ ব্রণের জন্য ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শনুসারে দরকারি মেডিকেশন ও টপিক্যাল ওষুধ নিন।
⦁ ব্যবহার করুন নির্দিষ্ট ব্রণ প্রতিরোধক প্রোডাক্ট যেমন স্যালিসিলিক অ্যাসিড (Salicylic Acid) বা বেনজোয়াইল পারক্সাইড (Benzoyl Peroxide) কিংবা নিয়াসিনামাইড (Niacinamide)।
⦁ প্রয়োজনে ডার্মাটোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মেকআপের কারণে ব্রণ হওয়া বেশ সচরাচর একটি সমস্যা; তবে সঠিক পণ্য নির্বাচন, নিয়মিত ত্বক পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য non-comedogenic এবং oil-free মেকআপ ব্যবহার করুন এবং রাতের বেলার আগেই মেকআপ পুরোপুরি পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। ত্বকের পোর বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ও ব্রণ কমাতে এটাই সঠিক পথ।
আপনার ব্রণ নিয়ে মেকআপ ব্যবহারে কোনো বিশেষ সমস্যা হয়েছে? কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন? শেয়ার করুন!