Acne, Skin Problem

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ নিরাময় করতে যে পদক্ষেপ নিতে হবে বিস্তারিত জেনে নিন

ব্রণ বা Acne ত্বকের একটি খুব সাধারণ সমস্যা । বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরের মধ্যে এই সমস্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাহিরের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপসহ নানা কারণে ব্রণ হতে পারে। যদিও ব্রণ প্রায় সবসময়ই মানুষকে বিরক্তিকর মনে হয়, সঠিক যত্ন নিলে তা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আজকে আলোচনা করব কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ নিরাময় করা যায় । অবশ্য এই পদ্ধতিগুলো মানলে এমনিতেই ব্রণ থেকে মুক্তি পাবেন! গত আলোচনায় আমরা ব্রণ হওয়ার কারণ বিস্তারিত বলেছিলাম! আজ শুরু থেকেই সংক্ষেপে বলি আবার।

ব্রণ হওয়ার কারণ

⦁ অতিরিক্ত তৈলগ্রন্থি (Sebaceous gland) থেকে তেলের বেশি নিঃসারণ

⦁ ত্বকের মৃত কোষ জমে pores বন্ধ হয়ে গেলে

⦁ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটলে

⦁ হরমোনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে (বয়ঃসন্ধির হরমোন) । এটার আলোচনাও আমরা শীঘ্রই করব

⦁ মানসিক চাপ ও অপরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ নিরাময়

Photo Curtacy Breylee

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ নিরাময় করার সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি

১. ত্বক পরিষ্কার রাখা:

দুপুর-সন্ধ্যায় এবং রাতে দিনের শেষে মুখ ধুতে হবে মৃদু ও তেলমুক্ত (oil-free) ক্লিনজার দিয়ে। অতিরিক্ত স্ক্রাব বা জোরে ঘষা ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দিনে অন্তত দুইবার ধুতে হবে। তবে মাত্রাতিরিক্ত না তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে। এই বিষয়টাই স্পষ্ট করে বলেছে America Academy of Dermatology

২. টক দই ও লবঙ্গ ব্যবহার:

টক দই ব্রণের প্রদাহ কমায় আর লবঙ্গের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ত্বক পরিষ্কারে কাজ করে। লবঙ্গ গুঁড়া ও টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্রণের উপরে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। সহজেই স্কিনে প্রশান্তি আসবে। ঘরোয়া এই পদ্ধতিটি প্রায় অনেকেই জানেন আর ব্যবহারও করেছেন। বিশেষ করে যাদের বয়স এখন ৪০ এর কোটায় তারা এ বিষয়ে বেশ পরিচিত।

৩. চা-গাছের তেল (Tea Tree Oil):

প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে চা-গাছের তেল খুব কার্যকর। ব্রেইলি (Breylee) কিংবা SOME BY MI এর মতো কোম্পানীগুলো কিন্তু এই Tea Tree Oil দিয়ে ক্লিনজার, ক্রিম তৈরি করে। এই তেল তুলার সাহায্যে কয়েক ফোঁটা নিয়ে ব্রণের উপর সরাসরি লাগান। এটি ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে প্রদাহ কমায়।

Acne Treatment

Skin1004 Madagascar Centella Tone Brightening Capsule Ampoule

৪. বরফ দিয়ে ব্রণের ব্যাথা কমানো:

একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বরফ মোড়ানো অবস্থায় ব্রণের ওপর ১ মিনিট ধরে চাপ দিন। এতে লাল ভাব ও ফোলা কমে যায়। তবে অতিরিক্ত বরফ দিবেন না। তাহলে স্কিনের নরমাল অবস্থা বদলে স্কিন ফুলে যেতে পারে।

৫. লেবুর রস:

লেবুর মধ্যে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা ব্রণের জীবাণুকে ধ্বংস করে। একটি তুলোর সাহায্যে লেবুর রস নিয়ে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। তবে সংবেদনশীল ত্বকে এটি খুশকি বা লাল ভাব সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্যাচ টেস্ট করুন। তাছাড়া লেবু খেলেও স্কিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয়। যা স্কিন ব্রাইট রাখতে খুবই কার্যকরী!

৬. মুলতানি মাটির ব্যবহার:

ত্বক থেকে তৈলাক্ততা কমাতে মুলতানি মাটির পেস্ট নিয়ে সপ্তাহে ১-২ বার মুখে লাগানো বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। এটির সাহায্যে ত্বক শুষ্ক না করে অতিরিক্ত তেল কমানো যায়। নরমালি অতিরিক্ত পরিমাণে ক্লিনজার বা ফেইসওয়াশ ইউজ করলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৭. ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো:

প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো ও মানসিক চাপ কমানো ব্রণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পর্যাপ্ত ঘুম থাকলে অর্ধেক সমস্যা মিটে যায়। যেমন ধরেন অনেকের চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। তার মূল কারণ রাতে কম ঘুমানো।ঘুম জীবনের অনন্য উপাদান।

Acne Care Treatment

Photo Taken from Breylee website

৮. পর্যাপ্ত পানি পান:

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো পানি পান করা। তার পরিমাণ পর্যাপ্ত হতে হবে। যেমন ভাবে পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার। পানি স্কিন হাইড্রেট (Hydrate) রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের পানিশূন্যতা কমে এবং ত্বক ভালো থাকে। দিনে অন্তত পরিমাণ দেড় থেকে আড়াই লিটার পানি পান করতে হয়।

৯. তেল-মুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার:

মুখ ধোয়ার পর ত্বক শুষ্ক হতে পারে, তাই অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এতে স্কিনে তরলের ভারসাম্য বজায় থাকে আর অতিরিক্ত ময়লা জমার সম্ভাবনা কমে যায় । সেরা ব্র্যান্ড ও মান দেখে স্কিন কেয়ার ময়েশ্চারাইজার বাছাই করুন।

সতর্কতা

⦁ ব্রণ থামাতে নিজের মতো যা খুশি তা ওষুধ বা পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

⦁ ত্বকে কোনো ধরনের জ্বালা বা সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

⦁ নিয়ম মেনে স্কিন কেয়ার পণ্য ইউজ করুন । না জানলে দক্ষ লোকের পরামর্শ নিন

⦁ স্কিনের ধরন বুঝে ক্লিনজার, ক্রিম, সিরাম, লোশন বা যেকোনো স্কিন কেয়ার পণ্য ইউজ করুন।

 

ব্রণ শুধুমাত্র একটি সমস্যা নয়। এটি ত্বকের যত্নহীনতার একটি প্রকাশ। তাই স্কিনের পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়া ছাড়া আর কোনো সুযোগ নেই। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ নিরাময় করতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, মানসিক শান্তি বজায় রাখা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে খুবই কার্যকরিও ভূমিকা রাখবে। যদি ব্রণ গুরুতর হয়, তবে স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। ত্বকের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন!

আপনি কোন ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ নিরাময় বেশি কার্যকর পেয়েছেন? শেয়ার করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *